খালেদা জিয়ার দণ্ড স্থগিতের দাবি খন্দকার মাহবুবের

Total Views : 34
Zoom In Zoom Out Read Later Print

প্রচলিত আইনে তার জামিন প্রাপ্য।

কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে দেশে কিংবা বিদেশে চিকিৎসা নেয়ার জন্য সাজা স্থগিত করে মুক্তি দেয়ার দাবি জানিয়েছেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম। গতকাল সুপ্রিমকোর্ট আইনজীবী সমিতি ভবনের অডিটোরিয়ামে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ফোরামের আহবায়ক অ্যাডভোকেট খন্দকার মাহবুব হোসেন এ দাবি জানান।


বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, ফৌজদারী কার্যবিধির ৪০১ (১) ধারা মোতাবেক কোন সাজার কার্যকারিতা শর্তহীনভাবে স্থগিত করার একমাত্র ক্ষমতা সরকারের হাতে। আমরা আশা করি সরকার প্রতিহিংসার পথ পরিহার করে আইনগতভাবেই চিকিৎসার জন্য খালেদা জিয়াকে মুক্তি দিতে পারেন। এজন্য প্রয়োজন সরকারের সদিচ্ছা। তাই আমরা সরকারের নিকট অবিলম্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার দণ্ডাদেশ স্থগিত করে তার ইচ্ছামত দেশে কিংবা বিদেশে চিকিৎসার সুযোগ দেয়ার দাবি জানাচ্ছি। এই দাবির পরিপ্রেক্ষিতে আগামী ১৩ই জানুয়ারি সোমবার দেশের সকল আইনজীবী সমিতিতে খালেদা জিয়ার সুচিকিৎসা ও মুক্তির দাবিতে বিক্ষোভ ও প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হবে।


খন্দকার মাহবুব হোসেন বলেন, তিন বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে দুটি মিথ্যা মামলায় দণ্ডিত হয়ে কারাগারে আটক আছেন।  দেশে আইনের শাসন থাকলে খালেদা জিয়ার মতো একজন জনপ্রিয় নেত্রীকে এভাবে কারাগারে আটক রাখা হতো না। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট মামলায় বেগম জিয়াকে সর্বোচ্চ সাজা পাঁচ বছর দেয়া হয়েছে। তিনি একজন বয়স্ক, অসুস্থ মহিলা।


প্রচলিত আইনে তার জামিন প্রাপ্য। কিন্তু আমাদের দুর্ভাগ্য দেশের সর্বোচ্চ আদালত এই মামলায় তার জামিনের আবেদন খারিজ করে দিয়েছেন।


তিনি বলেন, পিজি হাসপাতাল হতে মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য সম্বন্ধে যে প্রতিবেদন দিয়েছে তাতে তার বর্তমান অবস্থায় এডভান্স চিকিৎসা দরকার। কিন্তু এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়নি। অথচ ক্ষমতাসীন দলের  নেতারা তাদের নিজেদের চিকিৎসার জন্য রাষ্ট্রীয় অর্থ ব্যয় করে বিদেশে যান। অথচ তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়াকে নিজ খরচে তার পছন্দ মতো হাসপাতালে  সুচিকিৎসার সুযোগ দেয়া হচ্ছে না।


সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, আমরা যখন খালেদা জিয়ার উন্নত চিকিৎসার কথা বলি, তখন আমাদেরকে বলা হয় পিজি হাসপাতালে তার উন্নত চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। তাহলে কিছুদিন আগে যখন পিজি হাসপাতালে ক্ষমতাসীন দলের এক নেতার চিকিৎসা হচ্ছিল, হঠাৎ করে তাকে এয়ার এ্যামু্বলেন্সে করে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হলো। আল্লাহর রহমতে তিনি ওখানকার চিকিৎসায় সুস্থ্য হয়ে ওঠেন। এখানে প্রশ্ন তাকে কেন সিঙ্গাপুরে চিকিৎসার জন্য নেয়া হলো। তাকে কেনো পিজি হাসাপাতাকে চিকিৎসা কনটিনিউ করলো না। নিয়ম শুধু আমাদের ক্ষেত্রে। বেগম জিয়াকে জামিন দিলে তো তিনি পালিয়ে যাবেন না। তিনি বাংলার আপোসহীন নেত্রী। খালেদা জিয়ার জোড়ালো জামিনের জোড়ালো দাবি থেকে সড়ে আসতেছেন কিনা সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনের যে বিধান রয়েছে, তাতে খালেদা জিয়ার জামিন আবেদন সময় সাপেক্ষ ব্যাপার। কিন্তু আমরা চাচ্ছি তার ইমিডেটলি মুক্তি।


সংবাদ সম্মেলনে জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরামের সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট মো. ফজলুর রহমান খান, যুগ্ম আহবায়ক এ জে মোহাম্মদ আলী, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, অ্যাডভোকেট নিতায় রায় চৌধুরী, সুপ্রিম  কোর্ট আইনজীবী সমিতির সম্পাদক ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন, যুগ্ম আহ্বায়ক মাসুদ আহমেদ তালুকদার, বিএনপি’র আইন বিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, আবেদ রাজা, মো. ফারুক হোসেনসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা উপস্থিত ছিলেন।

See More

Latest Photos