পোশাক রপ্তানিতে আরো দরকষাকষির পরামর্শ প্রধানমন্ত্রীর

Total Views : 4
Zoom In Zoom Out Read Later Print

বস্ত্রপণ্যের ব্যবসায়ীদের যথাসাধ্য দরকষাকষির পরামর্শ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

তিনি বলেন, আমাদের দেশের বস্ত্রপণ্য খুব অল্প টাকায় আমরা বিক্রি করি। পণ্যের দাম মাত্র ১ ডলার করে বাড়ালেও আমরা লাভবান হতে পারতাম। দেশের পোশাক খাতকে আরো উন্নত করা সম্ভব হতো। এখন আমাদের বার্গেনিং করা উচিত।


গতকাল বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে জাতীয় বস্ত্র দিবসের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে এ কথা বলেন তিনি। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী বীর প্রতীকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুনশি, শ্রম ও কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী বেগম মন্নুজান সুফিয়ান, বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় সংক্রান্ত স্থায়ী কমিটির সভাপতি মির্জা আজম ও মন্ত্রণালয়ের সচিব লোকমান হোসেন মিয়া। বস্ত্রপণ্য ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদেশিক ক্রেতা ও বায়ারদের দরকষাকষির বিষয়ে আপনাদের বলা উচিত। যদিও প্রতিযোগিতার বাজার।


তবুও বার্গেনিং করতে হবে। আমি নিজে যেসব দেশে যাই এ বিষয় নিয়ে তাদের সঙ্গে কথা বলি। আমি নিজে একা বললে হবে না, আপনাদেরও বলা উচিত।


প্রধানমন্ত্রী পাটসহ অন্যান্য বস্ত্র খাতের গুরুত্ব জানিয়ে বলেন, পাট এমন একটি কৃষিপণ্য যা পরিবেশবান্ধব। আমরা পাটের জীবনরহস্য উন্মোচন করেছি। এখন পাট দিয়ে বিভিন্ন পণ্যের পাশাপাশি বস্ত্র নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলেছে। এর বিকাশে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। তাঁত শিল্পও আমাদের দীর্ঘদিনের ঐতিহ্য। মসলিনের ঐতিহ্য হারিয়ে যেতে শুরু করেছে। এ নিয়ে নতুন করে গবেষণার কাজ শুরু করার প্রস্তুতি চলছে। তিনি বলেন, সরকার সিল্ক ও রেশমের ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। রাজশাহীতে ১৯টি লুম চালু করা হয়েছে।


বস্ত্রখাতে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে এগিয়ে আসা দরকার। কারণ রাষ্ট্রীয় খাতে গেলেই অজানা কারণে আমরা লাভের মুখ দেখি না। জানি না এর পেছনে মূলত কী কারণ।

২০১৩ সালে রানা প্লাজা ট্র্যাজেডির পর বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের ক্রেতা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক কোম্পানির অন্যায্য বাণিজ্যের বিষয়টি বিশ্বজুড়েই আলোচিত হয়। বাংলাদেশ থেকে ৫ ডলারে শার্ট কিনে কোনো কোনো কোম্পানি যে দশ গুণ বেশি দামেও তা বিক্রি করছে, সে তথ্যও তখন উঠে আসে।


প্রতিযোগিতার বাজারে টিকে থাকতে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের নতুন বাজার খোঁজার পাশাপাশি পণ্যের বহুমুখীকরণে নজর দেয়ার তাগিদ দেন শেখ হাসিনা।


তিনি বলেন, আসলে এক জিনিস সব সময় চলে না। কাজেই রপ্তানির ক্ষেত্রে বহুমুখীকরণ অর্থাৎ পোশাকের ক্ষেত্রেও তার ডিজাইন, রঙ- সবকিছুই কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে পরিবর্তন হয়। আমি জানি যারা ক্রয় করতে আসে- বায়ার  তাদের চাহিদার ওপরই নির্ভর করে। তারপরও আমাদের নিজস্ব একটা উদ্যোগ থাকা উচিত, সেটা হল নতুন নতুন বাজার- পণ্য বাজার খুঁজে বের করা।


নতুন কোন বাজারে বাংলাদেশের পণ্য রপ্তানি করা যায়, কোন দেশে কোন পণ্যের চাহিদা বেশি, কোন ধরনের পোশাকের চাহিদা বেশি, কোন ধরনের ডিজাইন বেশি চলছে, বছরের কোন সময় কোন রঙ বেশি প্রভাব ফেলে- সেসব বিষয় মাথায় রেখে উৎপাদন বহুমুখী করা প্রয়োজন বলে মত দেন প্রধানমন্ত্রী। আর সেজন্য স্বল্পমেয়াদী, মধ্যমেয়াদী ও দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা প্রণয়নে গুরুত্ব দিয়ে ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আমি আশা করি, আপনারা এই ধরনের পরিকল্পনা প্রণয়ন করবেন, গ্রহণ করবেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে এক্ষেত্রে সব ধরনের সহযোগিতা আমরা করব।

বাংলাদেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে তোলার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেখানে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসবে বলে সরকার আশা করছে। এই বিনিয়োগের ক্ষেত্রে আমাদের এটাই লক্ষ্য, আমাদের দেশীয় পণ্য যা আমরা উৎপাদন করি, সেখান থেকে কী কী কাঁচামাল ব্যবহার করে আমরা পণ্য উৎপাদন করতে পারি এবং বাজারজাত করতে পারি- সেইভাবে আমাদের কিছু চিন্তা-ভাবনা করতে হবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য।


দেশের ‘সার্বিক উন্নয়ন করাই’ সরকারের লক্ষ্য মন্তব্য করে সরকারের নেয়া বিভিন্ন উদ্যোগ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা প্রধানমন্ত্রী অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশ হবে সম্পূর্ণ দারিদ্র্যমুক্ত একটি দেশ, উন্নত দেশ, সমৃদ্ধশালী দেশ এবং আমরা তা করতে পারব। এই বিশ্বাস আমার আছে। কাজেই সেই ক্ষেত্রে আমাদের শিল্পায়ন, শিল্প বাণিজ্যের উন্নয়ন এবং সর্বক্ষেত্রে আমাদের উন্নতি করতে হবে। সেদিকে লক্ষ্য রেখেই সকলে কাজ করবেন। এটাই আমি আশা করি।


বাংলাদেশ তার নিজস্ব অর্থনীতির ওপর দাঁড়িয়ে বিশ্ব দরবারে সম্মানের সঙ্গে মাথা উঁচু করে চলবে- এমন প্রত্যাশার কথা তুলে ধরে শেখ হাসিনা বলেন, আমার দেশের সাধারণ নাগরিক কৃষক-শ্রমিক-মেহনতী মানুষ-তাদের ভাগ্য পরিবর্তন হবে। তারাও উন্নত জীবন পাবে। তাদের ছেলেমেয়েরা লেখাপড়া শিখে উন্নত জীবনযাপন করবে। সেটাই আমাদের লক্ষ্য। বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে গতকাল থেকে শুরু হওয়া বস্ত্রমেলা চলবে ১১ই জানুয়ারি পর্যন্ত। জাতীয় বস্ত্র দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য বিষয় হরো- ‘বস্ত্রখাতের বিশ্বায়ন, টেকসই উন্নয়ন।’ এদিকে বস্ত্রখাতের উন্নয়নে বিশেষ অবদান রাখায় অনুষ্ঠানে ৯টি প্রতিষ্ঠানকে সম্মাননা পদক দেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

See More

Latest Photos