ধারাবাহিক পতনে তলানিতে পুঁজিবাজার

Total Views : 38
Zoom In Zoom Out Read Later Print

ধারাবাহিক দরপতনে খাদের কিনারে যাচ্ছে দেশের পুঁজিবাজার।

সপ্তাহের শেষ কর্মদিবস গতকালও ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) মূল্য সূচকের পতনেই লেনদেন শেষ হয়েছে। অপর বাজার চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সূচক ও লেনদেন দুটোই কমেছে। এতে বিনিয়োগকারীদের লোকসানের পাল্লা দিন দিন ভারি হচ্ছে। খোয়া যাচ্ছে মূলধন। এতে বাজারের প্রতি বিনিয়োগকারীদের অনাস্থা তৈরি হয়েছে। ফলে লেনদেনে চলছে চরম খরা। এতে বিনিয়োগকারীদের পাশাপাশি লোকসানে পড়েছে মার্চেন্ট ব্যাংক, ব্রোকারেজ হাউস এবং খোদ স্টক এক্সচেঞ্জও।


ভুক্তভোগী বিনিয়োগকারীরা জানান, লোকসানের মাত্রা এমন পর্যায়ে ঠেকেছে যে এখন থেকে শেয়ার বিক্রি করে বাজার থেকে বের হওয়ারও কোনো উপায় নেই।


পুঁজি বাঁচাতে সমন্বয় করেও ফল পাননি তারা। সব মিলে পুঁজিবাজার এখন তাদের কাছে আতঙ্কের নাম।


বিশেষজ্ঞরা জানিয়েছেন, দীর্ঘদিন ধরে মন্দা থাকায় প্রায় সব শেয়ারের দর এখন তলানিতে। ব্যাংক খাতের তারল্য সংকটের কারণেই দরপতন হচ্ছে। তা ছাড়া গ্রামীণফোনের কাছে বিটিআরসির বড় অঙ্কের পাওনা দাবির প্রেক্ষাপটে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের শেয়ার বিক্রির চাপ আরেকটি বড় কারণ।


সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্ট ড. এ বি মির্জ্জা আজিজুল ইসলাম বলেন, বর্তমানে পুঁজিবাজারে বেশ কিছু সমস্যা রয়েছে। এর মধ্যে গ্রামীণফোন ইস্যু একটি বড় বিষয়। এছাড়া বাজারে ভালো মানের শেয়ারের অভাব রয়েছে। রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিও বাজারে আসছে না। আনা যাচ্ছে না কোনো বিদেশি কোম্পানি। সব মিলে বিনিয়োগকারীদেরও আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে।


বাজার বিশ্লেষণে দেখা যায়, ডিএসই প্রধান বা ডিএসইএক্স সূচক ৩০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৪ হাজার ১৯৭ পয়েন্টে; যা গত ৩ বছর ৮ মাসের মধ্যে সর্বনিম্ন। এর আগে ২০১৬ সালের২৮শে এপ্রিল এই সূচকের অবস্থান ছিল ৪ হাজার ১৯৫ পয়েন্টে। অন্য সূচকগুলোর মধ্যে ডিএসইএস বা শরিয়াহ সূচক ৭ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ৯৪৫ পয়েন্টে এবং ডিএস ৩০ সূচক ১৫ পয়েন্ট কমে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪০৬ পয়েন্টে। ডিএসইতে গতকাল ৩০১ কোটি ৪১ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে। যা গত কার্যদিবস থেকে ২১ কোটি ৪৫ লাখ টাকা বেশি। আগের দিনের চেয়ে লেনদেনের পরিমাণ ছিল ২৭৯ কোটি ৯৬ লাখ টাকা। গতকাল ডিএসইতে ৩৫২টি কোম্পানি ও মিউচ্যুয়াল ফান্ডের শেয়ার লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে দর বেড়েছে ১২৬টির, কমেছে  ১৭৩টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৫৩টির।


এদিকে গত ৫ দিনের পতনে ডিএসইর বাজার মূলধন ৩ লাখ ৪০ হাজার ৮১১ কোটি টাকা থেকে ৩ লাখ ২৩ হাজার ৬৫০ কোটি টাকায় নেমে এসেছে। অর্থাৎ ৫ দিনে বাজার মূলধন কমেছে ১৭ হাজার ১৬১ কোটি টাকা।


অপরদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক সিএএসপিআই ১১০ পয়েন্ট কমে অবস্থান করছে ১২ হাজার ৭৭৬ পয়েন্টে। সিএসইতে টাকার অংকে ১০ কোটি ৭২ লাখ টাকার শেয়ার লেনদেন হয়েছে।


বিনিয়োগকারী মাইদুল বলেন, সামপ্রতিক সময়ে পুঁজিবাজারে নীরব পতন চলছে। এটাকে ২০১০ সালের পতনের চেয়ে কম বলা যায় না। এখন বিনিয়োগ-উপযোগী শেয়ারে বিনিয়োগ করেও প্রতিনিয়ত লোকসান গুনতে হচ্ছে। এমন চলতে থাকলে আমাদের অবস্থা আরো করুণ হবে।

See More

Latest Photos